ওয়েব নিউজ |
ফ্রাঙ্কো-বাংলা সামার ফেস্টের পর্দা নামতেই শুরু হয়ে গেল আরেক মহা আসর। স্টেজের অনুষ্ঠান শেষ, কিন্তু আসল মঞ্চ এবার বসল ফেসবুকে!
লটারির বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয় ফ্রান্সপ্রবাসী তৃতীয় লিঙ্গের একজন অংশগ্রহণকারীর নাম। আর এতেই যেন সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়ে যায় মন্তব্যের ঝড়। একের পর এক পোস্ট, কমেন্ট আর লাইভে নানা ধরনের দাবি, প্রশ্ন আর কৌতুক ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
কেউ লিখছেন, এটা লটারি নয়, আগে থেকেই স্ক্রিপ্ট লেখা ছিল! আবার কেউ বলছেন, এটা ভাগ্য নয়, সব আগেই ঠিক করা ছিল! আরেক দল তো আরও এক ধাপ এগিয়ে মন্তব্য করছেন, বিএমডব্লিউর চাবি নয়, আগে থেকেই নাকি চুক্তিপত্র প্রস্তুত ছিল!
এরপর শুরু হয় ছবি বিশ্লেষণের উৎসব। কেউ দুটি ছবি পাশাপাশি বসিয়ে নতুন গল্প বানিয়ে ফেলছেন। কেউ দাবি করছেন, এটা নাকি বিয়ের উপহার! আবার কেউ হাস্যরস করে লিখছেন, ২০ ইউরো দিয়ে গিয়ে শুধু নাটকটাই দেখলাম!
আরেকজনের আক্ষেপ, ২০ ইউরোর টিকিট কেটেছিলাম। গাড়ি তো দূরের কথা, শেষে স্টেজে শান্তকে দেখে মাথাব্যথা নিয়েই বাড়ি ফিরলাম!
অন্যদিকে কিছু নেটিজেন এমন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্লেষণ দিচ্ছেন, যেন র্যাফেল ড্রয়ের সময় তারা লটারির বাক্সের ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন!
এদিকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিজয়ীর ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় গাড়িটি বিক্রি করে অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর সেই পোস্টের কমেন্ট সীমিত বা বন্ধ হয়ে গেলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় নতুন আলোচনা। কেউ লিখছেন, বুঝে নিন, রহস্য আরও গভীর! আবার কেউ জবাব দিচ্ছেন, না ভাই, কমেন্ট বন্ধ মানেই অ্যাডমিনের মাথা গরম!
এতেই শেষ নয়। প্রথম সারিতে সাংবাদিক কে বসেছিলেন, কে ফ্রি টিকিট পেলেন, কে আগে না যাওয়ার কথা বলে পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন, এসব নিয়েও শুরু হয় নতুন বিতর্ক। যেন অনুষ্ঠানটি একদিকে, আর দর্শক তালিকাই হয়ে উঠেছে মূল আকর্ষণ!
সব মিলিয়ে গাড়ি একজনের ভাগ্যে জুটলেও বিনোদন পেয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। লটারির ফলাফল একবার ঘোষণা হয়েছে, কিন্তু ফেসবুকের আদালতে এখনো চলছে নতুন নতুন শুনানি। সেখানে বিচারকও নেটিজেন, সাক্ষীও নেটিজেন, আইনজীবীও নেটিজেন, আর রায়? সেটাও নেটিজেন!
সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যা-ই হোক, সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে প্রতিটি ছবি হয়ে যায় একটি "প্রমাণ", প্রতিটি কমেন্ট একটি "সাক্ষ্য", আর প্রতিটি গুজব কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিণত হয় "ব্রেকিং নিউজে"।
বিএমডব্লিউ যতটা না আলোচনায় এসেছে, তার চেয়েও বেশি গতিতে ছুটেছে ফেসবুকের কমেন্ট। আর লটারির সবচেয়ে বড় পুরস্কার যদি কিছু হয়ে থাকে, তবে সেটা হলো নেটিজেনদের সীমাহীন কল্পনাশক্তি!
