ওয়েব নিউজ |
প্যারিসের কূটনৈতিক অঙ্গনে এবার যেন বিদায়ের সানাই বাজতে শুরু করেছে! ফ্রান্স প্রবাসীদের মধ্যে যখন পাসপোর্ট জটিলতা নিয়ে ক্ষোভ, ভোগান্তি আর বিক্ষোভ চলছে, ঠিক তখনই খবরের ডালপালা মেলছে আরও একটি চমকপ্রদ গুঞ্জন।
রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহার সঙ্গে আরও দুই কর্তাকে ঢাকায় ফেরত নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করছে একটি সূত্র। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামী ২ অক্টোবরের মধ্যে ঢাকায় রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে তাদের। তবে তার আগেই তারা প্যারিসের ‘রাজদরবার’ গুটিয়ে ফেলতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে।
বিভিন্ন লবিং-তদবির, নানা মহলের দৌড়ঝাঁপ, কত কিছুর পরও শেষ পর্যন্ত যদি সত্যিই বিদায় নিতে হয়, তাহলে প্রশ্ন জাগে: প্যারিসের মসনদ কি এবার সত্যিই খালি হচ্ছে? নাকি ‘মহারাজের’ জন্য নতুন কোনো দরবারের সন্ধান চলছে?
শোনা যায়, ইচ্ছা ছিল ফ্রান্সেই অবসর গ্রহণ করে থেকে যাওয়ার। কারণ দেশে ফিরলে দুর্নীতির অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক ক্ষতিসাধনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রদূত তালহার বিরুদ্ধে আলোচিত হয়ে আসছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা আদালতের চূড়ান্ত রায়কে আলাদা করে দেখা জরুরি।
তিন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একই ‘সিংহাসনে’! রাষ্ট্রদূত তালহা ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ সালে ফ্রান্সে বদলি হয়ে আসেন। এরপর প্রায় পাঁচ বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের সাধারণ বদলি নীতিমালা নিয়ে যখন নিয়মিত আলোচনা থাকে, তখন একজন রাষ্ট্রদূত কীভাবে বছরের পর বছর একই জায়গায় বহাল থাকেন, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।
আর এখানেই শুরু হয় আসল গল্প! সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত থাকার কারণে তিনি সিনিয়র কর্মকর্তাদের টপকে রাষ্ট্রাচার প্রধান হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, লন্ডনে ডেপুটি হাইকমিশনারের দায়িত্ব, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে পরবর্তীতে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অর্থাৎ, চেয়ারটা যেন চেয়ার নয়, একেবারে ‘আজীবন সদস্যপদ’! এক সরকার গেল, আরেক সরকার এলো, সরকার বদলালো, ক্ষমতার পালাবদল হলো, কিন্তু প্যারিসের মসনদে ‘মহারাজের’ অবস্থান ছিল অটুট!
তাই প্রবাসীদের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন: তিন সরকারের আমলে যে মসনদ এত শক্ত ছিল, চতুর্থ অধ্যায়ে এসে কি সত্যিই সেই মসনদ ভেঙে যাচ্ছে? আর যদি সত্যিই ঢাকায় ফেরার নির্দেশ হয়ে থাকে, তাহলে প্যারিসের ভুক্তভোগী প্রবাসীদের পক্ষ থেকে হয়তো বলা যায়:
মহারাজ, যাওয়ার আগে শুধু একটা কাজ করে যাওয়ার আহ্বান পাসপোর্টের লাইনটা একটু ছোট করে দিয়ে যান!
কারণ প্রবাসীরা রাজদরবার চায় না,তারা চায় সেবা।তারা সুপারিশ চায় না, তারা চায় নিয়ম। আর তারা ‘মহারাজ’ চায় না, তারা চায় জবাবদিহিমূলক দূতাবাস।
এখন দেখার বিষয়, প্যারিসের এই ‘মহারাজের রাজত্ব’ সত্যিই শেষ হচ্ছে, নাকি এটাও আরেকটি কূটনৈতিক গুঞ্জন?
