ওয়েব নিউজ |
প্রতিষ্ঠার আট বছর পর প্রথমবারের মতো সমুদ্র ভ্রমণের আয়োজন করেছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্স। সংগঠনের সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই ভ্রমণে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস, খেলাধুলা, নাচ-গান, খাওয়া-দাওয়া ও নানা সামাজিক অনুষ্ঠান। দিনব্যাপী এই আয়োজনকে ঘিরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
গত ১৬ তারিখ, রবিবার, প্যারিসের পর্ত দ্য লা ভিলেত থেকে তিনটি বাস সমুদ্র ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। গন্তব্য ছিল ফ্রান্সের জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত প্লাজ দ্য কাবুর্গ।
তিনটি বাসে মোট প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ছিলেন। তিনটি বাসের নেতৃত্বে ছিলেন জাবেদ মিয়া, ব্যবসায়ী আব্দুল বাসেত ও বদরুল। সকাল থেকে যাত্রাপথেও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দের আমেজ।
গন্তব্যে পৌঁছানোর পর শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক ও সামাজিক আয়োজন। সমুদ্রসৈকতের মনোরম পরিবেশে অংশগ্রহণকারীরা খেলাধুলা, নাচ-গান, খাওয়া-দাওয়া ও পারস্পরিক আড্ডায় মেতে ওঠেন।
দীর্ঘদিন পর সংগঠনের সদস্যদের এমন একটি বৃহৎ মিলনমেলা পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করেন আয়োজকরা।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষে প্যারিসে ফেরার সময় আয়োজন করা হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। বিভিন্ন খেলাধুলা ও আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের নেতৃবৃন্দ সংগঠনের আট বছরের পথচলা, বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠার আট বছর পর এবারই প্রথম সংগঠনের উদ্যোগে সমুদ্র ভ্রমণের মতো বৃহৎ একটি আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজন সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তব্যে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে সংগঠনে একনায়কতান্ত্রিক বা এককেন্দ্রিক নেতৃত্বের কারণে অনেক সময় বিভিন্ন কর্মসূচি ও আয়োজনের বিষয়ে যথাযথভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল না।
তারা বলেন, এখন সংগঠন একটি নতুন যাত্রার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা ও সুস্থ নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তারা আরও জানান, নতুন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫০ জন নতুন সদস্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে তারা জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের নির্বাচন কমিশনের সদস্যরাও। প্রদান নির্বাচন কমিশনার খসরুজ জামান বলেন, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্স সিলেটবাসীর প্রাণের সংগঠন। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে নেতৃত্বে আনতে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকে নেতৃত্বে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সমুদ্র ভ্রমণে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে উপস্থিত ছিলেন প্রদান নির্বাচন কমিশনার খসরুজ জামান, নির্বাচন কমিশনার বদরুল বিন আফরোজ এবং উপনির্বাচন কমিশনার শামসুল ইসলাম। তারা সংগঠনের আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সমুদ্র ভ্রমণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের সাবেক নেতৃবৃন্দের মধ্যেও উপস্থিত ছিলেন আলতাফুর রহমান, ছাদ মোহাম্মদ, কুদ্দুস মিয়া, আজাদ মিয়া ও মনোযার হোসেন (মোজাহিদ) আতিক মিয়া , টিটু মিয়া, । এছাড়াও সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রতিষ্ঠার আট বছর পর জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের প্রথম সমুদ্র ভ্রমণ পরিণত হয় সদস্যদের এক আনন্দঘন মিলনমেলায়। সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাচ-গান, খাওয়া-দাওয়া ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
তবে এই আয়োজন শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম, সদস্য বৃদ্ধি, আসন্ন নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়েও উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্স ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর একটি সংগঠন হিসেবে এগিয়ে যাবে।
