ওয়েব নিউজ |
ফ্রান্সজুড়ে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের ডাকা ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির বিভিন্ন শহরে ১৯৩টি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। এসব কর্মসূচিতে কত মানুষ অংশ নিয়েছেন, তা নিয়ে সরকার ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর হিসাবে বড় ব্যবধান দেখা গেছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ। অন্যদিকে দেশটির অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সংগঠন CGT-এর দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৭৩ হাজার। অর্থাৎ সরকারি হিসাবের তুলনায় শ্রমিক সংগঠনের হিসাবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু রাজধানী প্যারিসেই বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ। তবে CGT-এর হিসাবে রাজধানীতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশজুড়ে ৪৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের সদস্য ও জেন্ডারম বাহিনীর মোট ৫৩ জন সদস্য আহত হন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৮৬টি জরুরি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অধিকাংশ অনুমোদিত মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে রেন, মার্সেই, নঁত, লিওঁ, বোর্দো ও স্ট্রাসবুর্গসহ কয়েকটি শহরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভের শুরুতে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধের চেষ্টা করে। পরে তারা মূল বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেয়।
প্লাস দ্য লা রিপুবলিক থেকে শুরু হওয়া মূল মিছিল বুলভার ভলতেয়ার হয়ে প্লাস দ্য লা নাসিওঁর দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলের একপর্যায়ে বুলভার ভলতেয়ার এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশের ধাওয়া ও চার্জের সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হন ।
এদিকে ফ্রান্সজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
বেতন বৃদ্ধি, পেনশন সংস্কার, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি পরিষেবার উন্নয়নের দাবিতে শ্রমিক সংগঠনগুলো এ কর্মসূচির ডাক দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় শিক্ষার্থী ও লিসের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির খরচ বাড়লেও বেতন ও পেনশন সেই অনুপাতে বাড়ছে না। শিক্ষার্থীরাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন, শিক্ষক ও কর্মীসংকট এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
ধর্মঘটের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গণপরিবহন ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে অথবা শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি।
বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু আগামী সোমবার শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সামাজিক সম্মেলন আহ্বান করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেতন ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে চলমান উদ্বেগের সমাধান খুঁজতেই এ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি পূরণে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফ্রান্সের এবারের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে সরকার ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর ভিন্ন হিসাব থাকলেও, বেতন, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শিক্ষা ও সরকারি পরিষেবা নিয়ে জনঅসন্তোষ যে বড় পরিসরে প্রকাশ পেয়েছে, তা স্পষ্ট।
