ওয়েব নিউজ |
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১২ বছর বয়সি এক শিশুকন্যাসহ চারজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে দেশটির ইভলিন অঞ্চলের ত্রাপ ও লা ভেরিয়ের এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত শিশুটির শরীরে আটটি গুলি লাগে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্যারিসের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। মেডিকেলের তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের আগে তার অবস্থা গুরুতর থাকলেও পরে স্থিতিশীল হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
৩৯ বছর বয়সি এক ব্যক্তি গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পথচারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া এ হামলায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারী ত্রাপ ও লা ভেরিয়েরের বিভিন্ন স্থানে গুলি চালান। হামলায় নিহত ব্যক্তির বয়স ছিল ২৬ বছর।
হামলার সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে লা ভেরিয়ের এলাকায়। সেখানে ১২ বছর বয়সি এক শিশুকন্যা গুলিবিদ্ধ হয়। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তার শরীরে আটটি গুলির আঘাত লাগে। যকৃৎ, কিডনি, হাত ও উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে সে আহত হয়।
গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে প্যারিসের নেকের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় বলে জানিয়েছে মেডিকেল বোর্ড।
শিশুটির মা সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর মেয়ে সাঁতার কাটতে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে সে গুলির শিকার হয়। নিজের সন্তানের এমন অবস্থায় ভেঙে পড়েন তিনি। কেন একটি শিশুকে এভাবে গুলি করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তবে সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে তাকে নিহত হিসেবে উল্লেখ করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরপরই ফরাসি পুলিশের বিশেষ অভিযানের সদস্যরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেন। ত্রাপ ও লা ভেরিয়েরের পাশের কোয়েনিয়ের এলাকায় তাকে আটক করা হয়।
সন্দেহভাজন ব্যক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত স্টেন ধরনের একটি স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে গুলি চালান। তার গাড়ি থেকে কাঁদানে গ্যাসের সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের কথাও জানানো হয়েছে।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগে চুরি, মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত অপরাধ ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে পুলিশের নথি ছিল। তবে এসব পূর্ববর্তী অভিযোগের সঙ্গে বর্তমান হামলার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
হামলার পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ফ্রান্সের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির দপ্তর ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে। বর্ণবাদী বা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ত্রাপের মেয়র আলি রাবেহ হামলাটিকে বর্ণবাদী বিদ্বেষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁও ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন।তবে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
এ হামলার পর ত্রাপ ও লা ভেরিয়ের এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জনবহুল এলাকায় গুলি চালানোর ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো হামলার ঘটনাপ্রবাহ, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু এবং এক শিশুকন্যাসহ চারজনের আহত হওয়ার এ ঘটনা ফ্রান্সে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মাত্র ১২ বছর বয়সি একটি শিশুর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
শিশুটির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা, হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এবং তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংবাদমাধ্যম।
