ওয়েব নিউজ |
বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও লেখক ফরিদ আহাম্মদ রনির আলোকচিত্রভিত্তিক গ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’র প্রশংসা করেছে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তর। বইটি উপহার দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ফ্রান্সের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার উদ্যোগের প্রশংসা করে তাঁকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে দপ্তরটি।
২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল মাখোঁর হাতে নিজের প্রকাশিত গ্রন্থটি তুলে দেওয়ার সুযোগ পান ফরিদ আহাম্মদ রনি। প্যারিসের ইতিহাস, স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক সৌন্দর্য আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা এই বই রাষ্ট্রপতির হাতে পৌঁছে দেওয়া তাঁর সৃজনশীল জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
রনি জানান, এর আগে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এবং প্যারিসের মেয়রের দপ্তর থেকেও বইটির বিষয়ে প্রশংসা ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর স্বাক্ষরিত রাষ্ট্রপতির দপ্তরের আনুষ্ঠানিক চিঠিটি তাঁর কাজের স্বীকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রাপ্ত চিঠিতে বইটি উপহার দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে লেখকের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে তাঁর প্রচেষ্টার স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে।
‘প্যারিসের ছবি’ কেবল একটি আলোকচিত্রের বই নয়। এতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ইতিহাস, স্থাপত্য, শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও নগরজীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে স্থান পেয়েছে আইফেল টাওয়ার, লুভর জাদুঘর, ঐতিহাসিক স্থাপনা, ভাস্কর্য, নগরজীবন এবং প্যারিসের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের নানা দৃশ্য।
বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থটি বাংলাদেশের আলোকচিত্র ও প্রকাশনাশিল্পকে আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পরিচিত করার একটি উদ্যোগ। তিন ভাষায় বইটি প্রকাশের ফলে বিভিন্ন দেশের পাঠকের কাছে প্যারিসের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল মাখোঁর পাশাপাশি প্যারিসের সাবেক মেয়র আন্না ইদালগোর হাতেও বইটি তুলে দিয়েছেন রনি। এ ছাড়া প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্রঁ পালে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়নবিষয়ক সম্মেলনে মোনাকোর যুবরাজ দ্বিতীয় আলবার্ট, ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লরাঁ ফাবিউস এবং জাতিসংঘের উপমহাসচিব মেলিসা ফ্লেমিংয়ের কাছেও বইটি পৌঁছে দেন তিনি।
২০২৬ সালের জুনে প্যারিসের বর্তমান মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ারের হাতে গ্রন্থটি উপহার দেন রনি। একই বছরের আগস্টে ফ্রান্সের সাবেক রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের হাতেও বইটি তুলে দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।
ফ্রান্স ও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি শিল্প, সাহিত্য, আলোকচিত্র ও সংস্কৃতির মাধ্যমেও সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে।
ফরিদ আহাম্মদ রনির ‘প্যারিসের ছবি’ সেই সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। একজন বাংলাদেশি আলোকচিত্রীর দৃষ্টিতে ফ্রান্সের রাজধানীর ইতিহাস ও সৌন্দর্য আন্তর্জাতিক পাঠকের সামনে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে নতুনভাবে পরিচিত করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পাওয়া আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র রনির ব্যক্তিগত সৃজনশীল অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশের আলোকচিত্র ও প্রকাশনাশিল্পের জন্যও একটি ইতিবাচক স্বীকৃতি।
শিল্প ও সংস্কৃতির কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে এক দেশের মানুষ অন্য দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। ‘প্যারিসের ছবি’ সেই পরিচয় ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন তৈরির একটি প্রয়াস।
