আপনার মন্তব্য পাঠাতে ফর্মটি ব্যবহার করুন৷
আপনার বার্তা
বিষয়
আপনার বার্তা
আপনার নাম
নামের শেষাংশ
লিঙ্গ



ইমেল ঠিকানা
শহর
দেশ
যুবকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য

গরু বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধ, শেষে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

User Image
  ওয়েব নিউজ
প্রকাশিত - ০৪ জুন, ২০২৬   ০৮:৩৪ পিএম
webnews24
ছবি: || ওয়েব নিউজ
নিজেস্ব প্রতিবেদক

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের বিগলী সুলেমানপুর গ্রামের এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক। পরিবারের দাবি, তাকে বিষ মিশিয়ে পানীয় খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি নিজেই বিষপান করেছিলেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মৃত যুবকের নাম ইমাম উদ্দিন (২০) পিতা- আমির উদ্দিন। তিনি ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের বিগলী সুলেমানপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যমতে, বিষপানের পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৬ মে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার কয়েকদিন আগে পরিবারের একটি গরু কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য হায়দরপুর বাজারে নিয়ে যান ইমাম উদ্দিন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি গরুটি ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরে ওই অর্থের একটি অংশ দিয়ে আরেকটি গরু কিনে বাকি টাকা মায়ের কাছে জমা দেন।

তবে তার বাবা সন্দেহ প্রকাশ করে দাবি করেন, গরুটি আরও বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে এবং প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের তথ্য গোপন করেছে ইমাম। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে গরুর ক্রেতার সঙ্গে তার বাবা যোগাযোগ করলে তিনি জানান, গরুটি ৮০ হাজার টাকাতেই কেনা হয়েছিল।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, এ ঘটনায় ইমাম উদ্দিন মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ চলছিল এবং তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।

তাদের দাবি, গত ২৩ মে সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির কক্ষে তিনি বিষপান করেন। অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় একটি সিএনজিযোগে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তবে মৃত্যুর পর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, প্রতিপক্ষের লোকজন বিষ মিশিয়ে পানীয় খাইয়ে তাকে হত্যা করেছে। এ অভিযোগে ছাতক থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ছাতক থানার মামলা নং-৩২, তারিখ ৩০/১২/২০২৫; ধারা- ১৪৩/৪৪৮/৩২৬/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৪২৭/৩৮২/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ পেনাল কোডে মামলাটি রুজু করা হয়।

এদিকে এলাকাবাসীর একটি অংশের দাবি, স্থানীয় একটি নতুন মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছে। তাদের অভিযোগ, চলমান দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে ইমাম উদ্দিনের বাবা, যিনি তৈমুস আলীর আত্মীয়, প্রতিপক্ষের কয়েকজনকে গায়াল করতে আসামি করে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন: রুহিত (২৩), পিতা- দেওয়ান মিয়া; রাজন (৫০); সফিক (৫৬), পিতা- মৃত কমরু মিয়া; জুবেল (৩৫), পিতা- আং হান্নান; এবং আজিফুল (৪৮), পিতা- মৃত ওয়াতির উন্নান।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, ইমাম উদ্দিনের সঙ্গে তার বাবার প্রায়ই ঝগড়া হতো। তাদের ভাষ্য, অনেক সময় গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।

তাদের একজন বলেন, “২৩ মে রাতে ওসমানী মেডিকেলে নেওয়ার সময় এবং হাসপাতালে থাকা অবস্থায় আত্মীয়-স্বজনদের সামনে তিনি নিজেই বলেছিলেন, বাবার অত্যাচারের কারণে তিনি বিষপান করেছেন।” তবে এসব দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মামলার এক অভিযুক্ত বলেন, “আমরা এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। মসজিদকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের কারণে আমাদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এলাকার বহু মানুষ জানেন এটি একটি সাজানো অভিযোগ।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মসজিদকেন্দ্রিক বিরোধের বিষয়টি এলাকায় দীর্ঘদিনের। তবে যুবকের মৃত্যুর সঙ্গে ওই বিরোধের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ইমাম উদ্দিনের বাবার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি একবার ফোন রিসিভ করে বলেন, “আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন, রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো পক্ষের দাবি বা অভিযোগকে চূড়ান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

ঘটনাটি নিয়ে বিগলী সুলেমানপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে স্থানীয় অনেকেই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।

ইমাম উদ্দিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। এটি আত্মহত্যা, দুর্ঘটনাজনিত বিষক্রিয়া নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্ত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আলামত বিশ্লেষণের পর।
 

সুনামগঞ্জ
ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
যুবকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য
ভুল রাজনীতির বয়ান' নিয়ে তুমুল প্রতিক্রিয়া