আপনার মন্তব্য পাঠাতে ফর্মটি ব্যবহার করুন৷
আপনার বার্তা
বিষয়
আপনার বার্তা
আপনার নাম
নামের শেষাংশ
লিঙ্গ



ইমেল ঠিকানা
শহর
দেশ

ইউরোপজুড়ে নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি কার্যকর, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা বাড়ছে

User Image
  ওয়েব নিউজ
প্রকাশিত - ১৩ জুন, ২০২৬   ০২:০৫ পিএম
webnews24
ছবি: || ওয়েব নিউজ Ai
বদরুল বিন আফরোজ , ফ্রান্স

দীর্ঘ এক দশকের রাজনৈতিক আলোচনা, বিতর্ক ও সমঝোতার পর অবশেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) নতুন Migration and Asylum Pact কার্যকর হতে শুরু করেছে। শুক্রবার (১২ জুন) থেকে ইউরোপজুড়ে এই নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়, যার মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় কমিশনের মতে, নতুন এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও সমন্বিত, কার্যকর ও নিয়ন্ত্রিত করা। বিশেষ করে ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের পর থেকে ইউরোপে অভিবাসন ইস্যু নিয়ে যে রাজনৈতিক চাপ ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, তার একটি সমাধান হিসেবেই এই সংস্কারকে দেখা হচ্ছে।

নতুন নীতির আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাহ্যিক সীমান্তে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় তাদের পরিচয়, জাতীয়তা, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হবে। সাধারণত সাত দিনের মধ্যে এই প্রাথমিক যাচাই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় যেসব আবেদনকারীর আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে বিবেচিত হবে, তাদের আবেদন সীমান্ত পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে আশ্রয় প্রক্রিয়া ঝুলে থাকার প্রবণতা কমবে বলে আশা করছে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ।

ইতালি, গ্রিস, স্পেন ও মাল্টার মতো সীমান্তবর্তী দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অভিবাসন চাপের মুখে ছিল। নতুন চুক্তির আওতায় অন্যান্য সদস্য দেশগুলোকে আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ, আর্থিক সহায়তা অথবা অন্যান্য উপায়ে সহযোগিতা করতে হবে। এই "সলিডারিটি মেকানিজম" বা সংহতি ব্যবস্থার মাধ্যমে দায়িত্ব আরও সমানভাবে ভাগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে Eurodac ডাটাবেজকে আরও উন্নত করা হয়েছে। এতে আঙুলের ছাপ, মুখাবয়বের ছবি এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে একজন ব্যক্তি একাধিক দেশে আশ্রয়ের আবেদন করতে না পারেন এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়।

তবে নতুন ব্যবস্থার প্রথম দিনেই Eurodac সিস্টেমে প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়, যা কয়েকটি সদস্য দেশের কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলেছে। যদিও ইউরোপীয় কমিশন এটিকে নতুন ব্যবস্থার প্রাথমিক প্রযুক্তিগত সমস্যা বলে উল্লেখ করেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো নতুন নীতির কিছু দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, সীমান্ত পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে অনেক ক্ষেত্রে আশ্রয়প্রার্থীরা যথাযথ আইনি সহায়তা বা ন্যায্য শুনানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বিশেষ করে আটক অবস্থায় পরিচালিত সীমান্ত প্রক্রিয়া এবং আপিলের সুযোগ সীমিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদিও নতুন নীতির লক্ষ্য ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা, তবে অনেক সদস্য দেশ এখনো পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেনি। ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশে আইনি ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে চ্যালেঞ্জের কথাও উঠে এসেছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই চুক্তি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিতে সবচেয়ে বড় সংস্কারগুলোর একটি। এটি একদিকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় কঠোরতা আনবে, অন্যদিকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির একটি কাঠামো তৈরি করবে। তবে এর বাস্তব সফলতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর।

শেষ কথা: ইউরোপের নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। তবে এটি অভিবাসন সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিতে পারবে কিনা, তা নির্ভর করবে আগামী মাস ও বছরগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর।

প্যারিস ইউরোপ
ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন