ওয়েব নিউজ |
এক সময় মানুষ পুরস্কার পেত কাজের জন্য। এখন অনেকে কাজ করেন পুরস্কার পাওয়ার জন্য। আর কিছু ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে, পুরস্কারও যেন অপেক্ষা করছে মানুষ কবে এসে নিজ খরচে তাকে নিয়ে যাবে!
ফ্রান্সের প্রবাসী কমিউনিটির একাংশে সম্প্রতি যেন এক নতুন “অর্থনৈতিক বিপ্লব” দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ একে বলছেন “অ্যাওয়ার্ড ইন্ডাস্ট্রি”, কেউ বলছেন “সম্মাননা অর্থনীতি”, আবার অনেকের ভাষায়, এটি হলো “ক্রেস্ট নির্ভর সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প।
সমালোচকদের দাবি, কিছু অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার চেয়ে অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের ফি পরিশোধ করা নাকি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অভিযোগ আছে, নির্বাচনের মানদণ্ড কোথায়, জুরি বোর্ড কারা, অর্জনের ভিত্তি কী, এসব প্রশ্ন করলে উত্তর আসে হাসিমুখে ছবি তোলার আমন্ত্রণ।
হিসাবটাও মজার। ধরা যাক, একটি ক্রেস্টের খরচ ৫ ইউরো। আর সম্মাননা গ্রহণের নামে নেওয়া হলো ৫০ ইউরো। তাহলে বাকি ৪৫ ইউরো কোথায় গেল? হয়তো সেটা “সামাজিক মর্যাদা উন্নয়ন তহবিল”-এ জমা পড়েছে!
১০০ জন মানুষ এভাবে অংশ নিলে আয় দাঁড়ায় ৫,০০০ ইউরো। আর যদি প্রত্যেকে ১০০ ইউরো দেন, তাহলে অনুষ্ঠান শেষ হতে না হতেই “সম্মাননার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতাও” অর্জিত হতে পারে।
তবে এই অনুষ্ঠানের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক আছে। অনেকেই বলছেন, কিছু মানুষ নাকি অ্যাওয়ার্ড নিচ্ছেন অর্জনের জন্য নয়, বরং পরদিন ফেসবুকে লেখার জন্য: আজ আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হলাম- ছবির নিচে করতালি, অভিনন্দন আর আগুন ইমোজির বন্যা। এরপর সমাজে নতুন পরিচয়: অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব।
প্রশ্ন হলো, এই সম্মাননা কি সমাজ দিয়েছে, নাকি বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক ট্রান্সফার? আরেকটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে কিছু কনটেন্ট নির্মাতা ও প্রবাসী গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতি। সমালোচকদের ভাষায়, কোনো কোনো অনুষ্ঠান যেন সংবাদ কভারেজের চেয়ে মোবাইল ক্যামেরায় উপস্থিতি নিশ্চিত করাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।কিছু পর্যবেক্ষকের কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য: এখানে আগে অনুষ্ঠান হয়, পরে খোঁজা হয় খবর কোথায়!
আবার কেউ কেউ বলছেন, সাংবাদিকতা নিয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার অভাব থাকলে সংবাদমূল্য আর সামাজিক প্রভাবের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যায়। ফলে কখনও কখনও বিভ্রান্তিকর বিষয়ও প্রচারের আলো পেয়ে যায়।
তবে সবশেষে প্রশ্ন একটাই: সম্মাননা কি অর্জনের স্বীকৃতি, নাকি সামাজিক মিডিয়ায় নতুন পরিচয় তৈরির শর্টকাট? কারণ, একটি অ্যাওয়ার্ডের মূল্য ক্রেস্টের কাঁচে নয়, তার বিশ্বাসযোগ্যতায়। আর সম্মাননার ওজন তার ফ্রেমে নয়, তার মানদণ্ডে। আর যদি একদিন দেখা যায়, সবাই অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত, তখন হয়তো নতুন করে প্রশ্ন উঠবে: এবার অ্যাওয়ার্ডটা কে পায়নি?
