ওয়েব নিউজ |
ব্রাসেলস: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র অভিবাসন নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। ৮ ডিসেম্বর ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো রিটার্ন রেগুলেশন বা নতুন ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত আইন নিয়ে রাজনৈতিকভাবে একমত হয়।এই সিদ্ধান্তগুলো এখনো ইউরোপীয় পার্লামেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ইউরোপে অনিয়মিতভাবে থাকা বা আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও বাধ্যতামূলক হবে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো ফেরত পদ্ধতি আরও কার্যকর করা এবং সব সদস্য রাষ্ট্রে একই নিয়ম চালু করা।এর ফলে একটি দেশে জারি হওয়া ফেরত আদেশ ফেরত অর্ডার অন্য সদস্য দেশেও কার্যকর হবে। সূত্র: Council of the European Union (consilium.europa.eu, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫)
এই নীতিতে সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব হলো ইউরোপের বাইরে রিটার্ন হাব বা ফেরত কেন্দ্র স্থাপন। এই কেন্দ্রগুলো এমন দেশে গড়ে তোলা হতে পারে, যাদের সঙ্গে ইইউ বিশেষ চুক্তি করবে। এখানে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত বা ইউরোপ ত্যাগে অস্বীকৃত ব্যক্তিদের পাঠানো হবে।
এই পরিকল্পনাকে অনেকেই তুলনা করছেন যুক্তরাজ্যের বাতিল হওয়া ‘রুয়ান্ডা মাইগ্রেশন স্কিম’ এর সঙ্গে।
সমালোচকরা বলছেন, এটি ইইউর “অভিবাসন আউটসোর্সিং”–এর একটি রূপ, যা মানবাধিকারের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
যেসব অভিবাসী স্বেচ্ছায় ইউরোপ ত্যাগে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের ক্ষেত্রে আটক রাখার সময়সীমা বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। এই নতুন বিধান অনুযায়ী, ফেরত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন না হলে ডিটেনশন পিরিয়ড বাড়ানো যাবে।
সীমান্তবর্তী দেশগুলো যেমন ইতালি, গ্রিস বা মাল্টা যাতে অভিবাসীদের অতিরিক্ত চাপ না নেয়, তার জন্য নতুন স্থানান্তর ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেসব দেশ আশ্রয়প্রার্থী নিতে রাজি হবে না, তাদের প্রতি প্রত্যাখ্যাত আবেদনকারীর জন্য প্রায় ২০,০০০ ইউরো আর্থিক অবদান দিতে হবে আশ্রয়প্রদানকারী দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সতর্ক করেছে,এই নীতি বাস্তবায়িত হলে আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপত্তা, আইনগত সুরক্ষা ও মানবিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। রিটার্ন হাব যদি এমন দেশে স্থাপিত হয় যেখানে শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন ঘটাতে পারে।
ফ্রান্স ও স্পেনও এই সিদ্ধান্তের কিছু অংশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা বলছে, “আইনি বৈধতা এবং কার্যকারিতা বিষয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন।
এই সিদ্ধান্তগুলো এখন যাবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে,যেখানে চূড়ান্ত ভোটের পরেই নীতিগুলো কার্যকর হবে।ইইউ কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ইউরোপের সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে।তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই পথে গেলে ইউরোপ তার মানবিক মূল্যবোধ হারাতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নীতি ইউরোপে ডানপন্থী ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির সরাসরি প্রতিফলন।
